বিদেশে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে চীনের টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা জেডটিই কর্পোরেশনকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জরিমানা দিতে হতে পারে।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলছে, জেডটিইকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের কাছে এই জরিমানা দিতে হতে পারে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেডটিইর বিরুদ্ধে তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোম্পানিটি বিদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে অনৈতিক সুবিধা বা ঘুষ প্রদান করে টেলিকম চুক্তি পেতে ব্যস্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য মূল্যবান কিছু প্রদান করা নিষিদ্ধ। অভিযোগে বলা হচ্ছে, কোম্পানিটি দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাতে ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে টেলিকম চুক্তি পেতে সক্রিয় ছিল, যা আন্তর্জাতিক ব্যবসায় নৈতিকতার জন্য বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিজনেসওয়ার্ল্ড অনলাইন জানিয়েছে, জেডটিই নিজেই একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ‘কোম্পানি সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে।’
বিজনেসওয়ার্ল্ড আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার প্রভাবে জেডটিইর শেয়ার বাজারেও বড় পতন দেখা দিয়েছে। হংকং তালিকাভুক্ত শেয়ার প্রায় ১২ শতাংশ নিচে নেমেছে, আর শেনঝেন তালিকাভুক্ত শেয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত পতন করেছে।
২০১৭ সালে জেডটিই অবৈধভাবে আমেরিকান পণ্য ইরানে রপ্তানি করার জন্য দোষ স্বীকার করে ৮৯২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা পরিশোধ করেছিল। ২০১৮ সালে আমেরিকা চীনা কোম্পানিকে ইউএস পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে ট্রাম্প প্রশাসন ও অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
বড় ধরনের জরিমানা হলে জেডটিইর আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ পড়তে পারে। কোম্পানির লাভ গত বছর ছিল ১.১৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় জেডটিইর জন্য আমেরিকান চিপ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে।
জেডটিই এখনও কোয়ালকম, ইন্টেল ও এএমডি থেকে চিপ ও কম্পোনেন্ট কিনছে। ২০১৫ সালে নরওয়ের সরকারি পেনশন ফান্ড জানিয়েছিল, জেডটিই ১৮টি দেশে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে জড়িত এবং ১০টি দেশে তদন্ত চলছে।
বিদেশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বহু টেলিকম কোম্পানি ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। জেডটিইর নতুন তদন্ত সেই ধারারই বড় উদাহরণ। এই মামলা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কেও দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
(মাহমুদ)










