আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের আক্রমণে খেই হারাল দল। সেই ধাক্কা সামাল দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সতীর্থদের দিয়ে করালেন দুই গোল। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইট ক্যাপসকে হারিয়ে মেজর লিগ সকারে প্রথমবার কাপ শিরোপা জিতে নিল ইন্টার মায়ামি।
শনিবার রাতে মায়ামির চেস স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারায় হাভিয়ের মাসচেরানোর দল। দলের তিনটি গোলেরই উৎসস্থল ছিলেন মেসি; যার ছোঁয়ায় অবনমন অঞ্চলের দলটি দুই বছরের মাথায় জিতে নিল সম্ভব্য সব ঘরোয়া শিরোপা।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে এগিয়ে যায় মায়ামি। মাঝমাঠে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে দারুণ দক্ষতায় পাশ কাটিয়ে তাদেও আলেন্দের দিকে নিখুঁত চিপ পাস বাড়ান মেসি। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে ক্রস করেন আলেন্দে। বল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার এডিয়ার ওকাম্পোর পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
এগিয়ে যাওয়ার পরও আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি মায়ামি। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করে। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আলি আহমেদের গোল ভ্যানকুভার ম্যাচে ফেরে। এরপর আরও চেপে ধরে দলটি।
৬২ মিনিটে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যায় মায়ামি। এম্যানুয়েল সাব্বির শট এক পোস্টে লেগে গোললাইনের অল্প দূরত্বে গড়িয়ে অন্য পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে শট নিলে আবারও পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। এক আক্রমণে তিনবার পোস্টে লেগে গোল না হওয়া সেই মুহূর্তই যেন ভ্যানকুভারের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল।
৭১তম মিনিটে ভ্যানকুভারের আন্দ্রেস কুবাস এক মুহূর্ত দেরি করায় তার কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেন মেসি, যা আসলে তার প্রেসিং দক্ষতার দারুণ উদাহরণ। বলটি কাড়ার পরই মেসি নিখুঁতভাবে পাস বাড়ান রদ্রিগো দি পলকে। জাতীয় দলের বিশ্বস্ত সতীর্থ ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় ইয়োইহে তাকাওকাকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান, আবার এগিয়ে যায় মায়ামি।
ম্যাচের শেষভাগে যোগ করা সময়ে মেসি আবারও আলেন্দেকে এক অনবদ্য পাস বাড়িয়ে দেন। এবার আলেন্দে ভুল করেননি, বল জড়ান সরাসরি জালে।
প্লে-অফে আলেন্দের এটি রেকর্ড নবম গোল। আর এই ছয় ম্যাচে মেসির অবদান দাঁড়ায় ১৫ গোল, যার মধ্যে ৬টি গোল, ৯টি অ্যাসিস্ট।
শিরোপা জয়ের উপলক্ষ্যটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে একটি কারণে। বার্সেলোনার দুই কিংবদন্তি জর্দি আলবা ও সের্হিও বুসকেতসের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ এটি।
বার্সায় ১১ মৌসুমে ছয় লা লিগা, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং স্পেনের হয়ে ইউরো ২০১২ জিতেছেন আলবা। তিনি বিদায় নিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক হিসেবে।
অন্যদিকে বুসকেতস বার্সার হয়ে ৭২২ ম্যাচ, ৩২টি ট্রফি আর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ী এক মহীরুহ, শেষ করলেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারও। দুজনেই নিজেদের পজিশনে ফুটবল বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব রেখেছেন।
আর মেসি? তিনি তো অনন্য। ক্যারিয়ারে এটি তার বিশ্ব রেকর্ড বাড়িয়ে নেওয়া ৪৮তম শিরোপা। যখন তিনি মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেন, তখন তলানিতে ছিল ইন্টার মায়ামি। তার আবির্ভাবে রাতারাতি বদলে যেতে থাকে ফ্লেরিডার দলটি। প্রথম মৌসুমেই জিতে নেয় লিগস কাপ শিরোপা। এরপর সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ের পর এবার জিতে নেয় ইস্টার্ন কনফারেন্সের শিরোপাও। তাতেও যেন পূর্ণতা পাচ্ছিল না ঠিকঠাক। এবার দলটি জিতে নিল এমএলএস কাপও।









