চোট কাটিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ফেরার ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার দারুণ ইনিংসে ভারত পেল লড়াইয়ের পুঁজি। পরে বোলারদের সম্মিলিত অবদানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং গুঁড়িয়ে বড় জয় তুলে নিল সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয় ১০১ রানে। কটকে মঙ্গলবার ১৭৫ রানের পুঁজি গড়ে প্রোটিয়াদের ৭৪ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা।
টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বনিম্ন স্কোর এটিই। তাদের আগের সর্বনিম্নও ছিল ভারতের বিপক্ষে, ২০২২ সালে রাজকোটে ৮৭।
ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ ছিল না উইকেট। ভারতের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই যেখানে শট খেলতে ভুগছিলেন, সেখানে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ২৮ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন পান্ডিয়া। পরে বল হাতে ১৬ রান দিয়ে ডেভিড মিলারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার পুরস্কার জেতেন ৩২ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
ভারতের হয়ে পান্ডিয়াসহ বোলিং করা ছয় জনের প্রত্যেকেই পান উইকেট। দুটি করে শিকার ধরেন জাসপ্রিত বুমরাহ, আর্শদিপ সিং, ভারুন চক্রবর্তি ও আকসার প্যাটেল।
জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে একশ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন ওয়ানডে সিরিজে বিশ্রামে থাকা বুমরাহ। পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই শত উইকেটের দেখা পেলেন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
শেষটা দারুণ হলেও ম্যাচের শুরুটা ভারতের ভালো ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় বলে তারা হারায় উইকেট। লুঙ্গি এনগিডিকে একটি চার মেরেই বিদায় নেন চোট কাটিয়ে ফেরা শুবমান গিল।
২৫ বলে ফিফটি করেন হার্দিক পান্ডিয়া। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক
এনগিডির পরের ওভারে টানা চার ও ছক্কার পর ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই আভিশেক শার্মাকে (১২ বলে ১৭) থামান লুথো সিপামলা।
৩২ বলে ২৬ রান করে তিলাক ভার্মা বিদায় নিলেন যখন, দ্বাদশ ওভারে ভারতের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৭৮। এরপরই উইকেটে গিয়ে ঝড় তোলেন পান্ডিয়া। সিঙ্গল নিয়ে শুরুর পর স্পিনার কেশাভ মহারাজের তিন বলের মধ্যে দুটি ছক্কা মারেন তিনি।
সিপামলাকে ছক্কায় উড়িয়ে পরের বলে বিদায় নেন আকসার (২১ বলে ২৩)। ভালো করতে পারেননি শিভাম দুবে।
১৯তম ওভারে সিপামলাকে পরপর ছক্কা ও চার মারেন পান্ডিয়া, একটি ছক্কা হাঁকান জিতেশ শার্মা। শেষ ওভারে আনরিখ নরকিয়াকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটি পূর্ণ করার পর একটি চার মারেন পান্ডিয়া।
শেষ ২ ওভারে আসে ৩০ রান।
রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের ১৪ বলে ২২ রান ছাড়া আর কেউ ১৫ পর্যন্তও যেতে পারেননি।
দ্বিতীয় বলে আর্শদিপের আউটসুইঙ্গারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুইন্টন ডি কক। এই পেসারের পরের ওভারে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ট্রিস্টান স্টাবস।
পাল্টা আক্রমণে ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এইডেন মার্করাম ও ব্রেভিস। বুমরাহর ওভারে চার ও ও ছক্কা মারেন মার্করাম। স্পিনার ভারুনকে বাউন্ডারির পর ছক্কায় ওড়ান ব্রেভিস।
পরের ওভারে আকসার বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে বিদায় করে দেন মার্করামকে। এরপর আসা যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন অন্যরা।
বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই মিলারকে ফেরান পান্ডিয়া। পরপর দুই ওভারে ডনোভান ফেরেইরা ও মার্কো ইয়ানসেনকে বিদায় করেন ভারুন। বুমরাহ একই ওভারে ব্রেভিসকে ফিরিয়ে শত উইকেট পূর্ণ করার পর আউট করেন মহারাজকে। পরের দুই ওভারে ম্যাচের সমাপ্তি।
আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ম্যাচ হবে নিউ চান্ডিগাড়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৬ (আভিশেক ১৭, গিল ৪, সুরিয়াকুমার ১২, তিলাক ২৬, আকসার ২৩, পান্ডিয়া ৫৯*, দুবে ১১, জিতেশ ১০*; এনগিডি ৪-০-৩১-৩, ইয়ানসেন ৪-০-২৩-০, সিপামলা ৪-০-৩৮-২, নরকিয়া ৪-০-৪১-০, মহারাজ ২-০-২৫-০, ফেরেইরা ২-০-১৩-১)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১২.৩ ওভারে ৭৪ (ডি কক ০, মার্করাম ১৪, স্টাবস ১৪, ব্রেভিস ২২, মিলার ১, ফেরেইরা ৫, ইয়ানসেন ১২, মহারাজ ০, নরকিয়া ১, সিপামলা ২, এনগিডি ২*; আর্শদিপ ২-০-১৪-২, বুমরাহ ৩-০-১৭-২, ভারুন ৩-১-১৯-২, আকসার ২-০-৭-২, পান্ডিয়া ২-০-১৬-১, দুবে ০.৩-০-১-১)
ফল: ভারত ১০১ রানে জয়ী










