সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নরেন্দ্র মোদী ইসরায়েলের পার্লামেন্ট কনেসেট–এ এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় সময়ে এবং ভবিষ্যতেও ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কনেসেটে এটি ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ। বক্তব্যে মোদি সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই, দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তেল আবিব পৌঁছে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার সঙ্গে ভারতের ২৬/১১ মুম্বাই হামলার তুলনা টানেন। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের কষ্ট অনুভব করি এবং এই মুহূর্তে পূর্ণ বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরায়েলের পাশে রয়েছি।”
মোদি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলে প্রাণ হারানো চার হাজারের বেশি ভারতীয় সেনার কথাও স্মরণ করেন এবং ১৯১৮ সালের হাইফা অভিযানের উল্লেখ করেন।
তার আগে বক্তব্য দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ককে গভীর ও বহুমাত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই জোট উভয় দেশের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। ২০১৭ সালে মোদির প্রথম ইসরায়েল সফরের স্মৃতিচারণ করে তিনি দুই নেতার ভূমধ্যসাগরের তীরে হাঁটার প্রসঙ্গ টানেন।
মোদি বলেন, তার নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। তিনি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরের কথাও উল্লেখ করেন, যা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সময় ভারত-ইসরায়েল বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ১০.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। এবারের সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
-বেলাল










