ময়মনসিংহ–ভৈরব রেলপথে বর্তমানে মাত্র দুটি ট্রেন চলাচল করছে—বিজয় এক্সপ্রেস ও নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস। এর মধ্যে বিজয় এক্সপ্রেস শুধু আঠারোবাড়ি রেলস্টেশনে থামে, মাঝপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামেনা। ফলে ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, নান্দাইলসহ আশপাশের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্টেশনগুলোতে জনবল ঘাটতি থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্বও হারাচ্ছে। সোহাগী রেলস্টেশনটি ঈশ্বরগঞ্জ সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সোহাগী বাজারে অবস্থিত। একসময় এটি ব্যস্ত স্টেশন ছিল। এখন কার্যত শূন্য জনবল নিয়ে চলছে, রেল সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা অচল।
আঠারোবাড়ি রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার সোহাগী ও ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্ব নিয়েও নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে সোহাগী বাজারের সবজি ও চাটাই ব্যবসায়ীরা রেল পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
নান্দাইল রোড স্টেশনও সংকটে রয়েছে। পার্শ্ববর্তী মুসল্লী রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় এর কার্যক্রম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নান্দাইল রোড স্টেশনে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একটি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। একসময় দিনে ও রাতে আপ-ডাউন মিলিয়ে ১০টির বেশি ট্রেন থামত। এখন শুধু চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন (৩৭-আপ ও ৩৮-ডাউন) নির্দিষ্ট সময়ে থামছে।
স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার বা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ছেন এবং অনেককে সারাদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো এবং জনবল সংকট নিরসন হলে সাধারণ মানুষ পুনরায় রেলসেবা গ্রহণ করতে পারবে এবং সরকারও বাড়তি রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান সরকারের কিছু স্থানীয় প্রতিনিধি স্টেশনগুলিতে ট্রেন স্টপেজ ও নতুন লোকাল ট্রেন চালু করার পদক্ষেপ নিলে সাধারণ জনগণ সুবিধা পাবে। শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া জানান, আরও ট্রেন চালু হলে সরকার লাভবান হবে এবং এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
-মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ










