গভীর পুকুরের গ্রাসে কবরস্থান, নীরব প্রশাসন: ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

আইন লঙ্ঘন করে প্রতিবেশীদের পারিবারিক কবরস্থান ও ফসলি জমির সীমানা ঘেঁষে গভীর পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলি জমি ধসে পড়ার পাশাপাশি শতবর্ষী পারিবারিক কবরস্থান ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাননি তারা।

ঘটনাটি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোবিন্দপুর গ্রামে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে গভীর পুকুর খনন করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর করে পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে পাশের শতবর্ষী পারিবারিক কবরস্থান ও আশপাশের ফসলি জমি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছমেদ আলী (৮০) গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর আগের দিন সরেজমিনে দেখা যায়, ভেকু মেশিন দিয়ে গভীরভাবে মাটি কাটা হচ্ছে এবং ট্রাক্টরের মাধ্যমে সেই মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে পুকুরসংলগ্ন ফসলি জমির মাটি ধসে পড়ছে। গর্তঘেঁষা শতবর্ষী কবরস্থানটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ছমেদ আলী বলেন, “এই কবরস্থানে আমার বাবা-মাসহ পরিবারের অনেক সদস্য শায়িত আছেন। পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে কবরস্থানের পাশেই গভীর পুকুর খনন করা হচ্ছে, যাতে কবরস্থান ভেঙে পুকুরে বিলীন হয়ে যায়। আমরা বাধা দিলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা অসহায় কে আমাদের পাশে দাঁড়াবে?”

ভুক্তভোগী বিধবা জাহানারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই। জীবিকার তাগিদে সন্তানরা দেশের বাইরে থাকে। বাড়িতে কেউ না থাকায় প্রভাবশালী দুলাল মিয়া গং জোরপূর্বক গভীর পুকুর খনন করছে। এতে আমাদের ফসলি জমি ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবাদ করলে গালমন্দ ও হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দুলাল মিয়া ও তার ছেলে এখলাস উদ্দিন বাপ্পু বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায় পুকুর খনন করছি। যত গভীর খুশি করব এতে কার কী আসে যায়? যা পারেন, করেন।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, “নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীর পুকুর খননের কোনো সুযোগ নেই। একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, যা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ