জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পরিষদের একজন বক্তা বলেন মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, আমাদের দাবি ছিল পুলিশ সংস্কার, নির্বাচন কমিশন সংস্কার, প্রশাসন সংস্কার কোনটা সংস্কার ই হয় নাই।যে পুলিশ কিছুদিন আগে ও ছিলো নীরব আজ তারা বীরদর্পে ফিরে আসছে। সোহরাওয়ার্দী কে মনে হয় তারা মাদকমুক্ত করেই ফেলেছে। আমার আসলে তখন নিজের মনে প্রশ্ন জাগছিল মাদকাসক্ত তাহলে কারা!
যাদের মাদকাসক্ত বলে পিটানো হচ্ছিলো তারা না কি যারা ওভাবে পিটাচ্ছিলো তারা? পুলিশ যে সংস্কার হয় নাই তার একটা ফল দেখলাম গত পরশুদিন সন্ধ্যায়।
বুধবার(২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, বাংলাদেশ শীর্ষক নাগরিক সংলাপের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন,এবার আসি মূল আলাপে। হ্যাঁ ভোটে ৬০ ভাগ ভোট জয়ী হয়েছে এটার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৩০টা রাজনৈতিক দল দিনের পর দিন মাসের পর মাস আলাপ করে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে যে,আমি বা আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই। তবে আমাদের একটা দুর্ভাগ্যের জায়গা হল, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন তারা তাদের মত করে সংবিধানকে ধারণ করে। একবার তারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন দিতে চায় না আবার তারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন চায় বা দিতে বলে এবং সেটার একটা সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। সংবিধানটা এমন ক্ষমতাসীন দল তাদের ইচ্ছামত সংবিধানকে ব্যাখ্যা করতে পারে এবং সংবিধানেও সেই সুযোগ রয়ে গেছে। এই জন্য আমরা সংবিধান সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিলাম যাতে এই সংবিধানটা শুধুমাত্র মানুষের পক্ষে হয় রাজনৈতিক দল গুলোর সেই সংবিধানকে ভিন্নভাবে ব্যবহারের পথ সীমাবদ্ধ হয়।কিন্তু আমরা সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে সেই পুরোনো বন্দোবস্ত কে মেনে নিয়ে তার মধ্যে ই ঢুকে পড়েছি এবং প্রত্যেকটা দল এখন দুইটা শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, একটা দল বলছে ৭১ ও ২৪ কে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।তারা বলছে, ৭১ কে মুছে ফেলে শুধুমাত্র ২৪ কে জোর প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ নাই এবং এটা এক ধরনের মেরুকরণও বলা যায়। ক্ষমতায় আসার পরে এই এক সপ্তাহে বিএনপি এখানে অনেকগুলো বড় ডিজাস্টার করেছে।
এই জায়গা থেকে আমি বলব যে, সংবিধান, ইলেকশন কমিশন সংস্কারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কার রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে এখন দরকার হয়ে পড়েছে। তারা এভাবেও বলেছে যে, গণভোটের ক্ষেত্রে যদি হ্যাঁ মেনে না নেওয়া হতো তাহলে নির্বাচন পিছানো হতো বা হতে দেয়া হতো না। তাই এখানে আমাদের সাথে আর ভন্ডামি করতে পারে, আমাদের সাথে জোচ্চুরি করতে না পারে তার জন্য রাজনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোও যাতে জবাবদিহিতার আওতায় থাকে এবং জনগণের সাথে প্রতারণা করার সুযোগ না পায় তাই সবার আগে রাজনৈতিক সংস্কার কে ই এখন প্রাধান্য দেয়া উচিৎ।
-মেহেরীন










