অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল হক বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ তাদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে দু’টি মামলা দায়ের করেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে ওই তথ্য জানিয়েছেন।
সহকারী পরিচালক রুহুল হক দুদকের ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ে যোগদানের আগে ঢাকায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি উত্তম কুমার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করেছেন। এ কারণে তিনি মামলা দু’টির বাদী হয়েছেন।
উত্তম কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, আসামী উত্তম কুমার তার উপর নির্ভরশীল ছেলে-মেয়ের নামে থাকা ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করেছেন। নিজ নামের ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ও ছেলে-মেয়ের নামে ২ কোটি ৮১ লাখ টাকাসহ মোট ৩ কোটি ১ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা, মাগুরা জেলাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে গত ১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে ওই অপরাধ সংগঠন হয়েছে।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা: সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল হকের স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৭৬ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। তার নামের ৭৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে দুদকের প্রাথমিক নোটিশ পাওয়ার সাথে সাথে এই আসামী নিজ নামীয় দুইটি ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করেছেন। পরে তিনি বিভিন্ন নামে বেনামে কোম্পানিতে নামমাত্র ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিনিয়োগ দেখিয়েছেন। অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করায় এজাহারে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারাসহ দণ্ডবিধি ১০৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
-সাইমুন










