ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের একটি বিশেষ কমিশন জানিয়েছে, নতুন সাধারণ ক্ষমা আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৩ হাজার ২০০-এর বেশি ব্যক্তি পূর্ণ মুক্তি পেয়েছেন। খবর আলজাজিরার।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বন্দি ছাড়াও গৃহবন্দি বা অন্যান্য বিচারিক বিধিনিষেধের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা।
কমিশনের প্রধান ও আইনপ্রণেতা জর্জ আরেয়াজা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি আইন পাস হওয়ার পর থেকে মোট ৪ হাজার ২০৩টি সাধারণ ক্ষমার আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন পর্যালোচনার পর গৃহবন্দি বা অন্যান্য বিধিনিষেধে থাকা ৩ হাজার ৫২ জনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারে থাকা আরও ১৭৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত সাধারণ ক্ষমা আইনে স্বাক্ষর করেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করা, পুনর্মিলন জোরদার করা এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ত্বরান্বিত করাই এই আইনের উদ্দেশ্য।
আইনে স্বাক্ষরের সময় রদ্রিগেজ বলেন, এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব “অসহিষ্ণুতার কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে ভেনেজুয়েলায় রাজনীতির নতুন পথ উন্মুক্ত করছে”।
তবে বিরোধী নেতারা এই সাধারণ ক্ষমা আইনের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, আইনটিতে এমন কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে, যা আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সমালোচকদের মতে, “ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সশস্ত্র বা বলপ্রয়োগমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ বা সহায়তা” করার অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ক্ষমা প্রযোজ্য নয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দণ্ডিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার ঘটনায় দেশে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর রদ্রিগেজের সরকার শত শত বন্দিকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ক্ষমা আইনে সতর্ক সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেন, অবৈধভাবে বিচারপ্রক্রিয়ার শিকার সব ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে আইনটি প্রযোজ্য হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরকালীন বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হতে হবে।
ভেনেজুয়েলাভিত্তিক বন্দি অধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে তারা মাত্র ৯১টি “রাজনৈতিক মুক্তি” যাচাই করতে পেরেছে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমার বাইরে থাকা ২৩২টি মামলার পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে এবং এখনো প্রায় ৬০০ মানুষ আটক রয়েছেন।










