যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে “৮ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল” গ্রহণ করেছে। একই দিনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ভারত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলা-সম্পর্কিত তৃতীয় একটি ‘নিষেধাজ্ঞাভুক্ত’ তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। খবর আলজাজিরার।
ওয়াশিংটন ডিসিতে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের নতুন বন্ধু ও অংশীদার ভেনেজুয়েলা থেকে আমরা ৮ কোটির বেশি ব্যারেল তেল পেয়েছি।” তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক তেল উৎপাদন ৬ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়েছে এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার পুরোনো স্লোগান-“ড্রিল, বেবি, ড্রিল”-পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে জানুয়ারিতে কারাকাসে বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো -কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। মাদুরো অভিযোগ করেছিলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বৈরিতা মূলত ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ দখলের অজুহাত।
ট্রাম্প প্রশাসন পরে ঘোষণা দেয়, ভেনেজুয়েলার তেলখাত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ তালিকায় রয়েছে শেভরন, এক্সনমোবিল এবং কোনোকোফিলিপস। জানুয়ারির শুরুতে হোয়াইট হাউসে এসব কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার পেন্টাগন জানায়, ভারত মহাসাগরে ‘বার্থা’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন সেনারা অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, “তিনটি জাহাজ পালানোর চেষ্টা করেছিল, এখন তিনটিই জব্দ।” প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসা সেনাদের জাহাজে উঠতে দেখা যায়।
পেন্টাগন জানায়, জাহাজটিকে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে এটি কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
তেলবাহী জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘বার্থা’ জাহাজটি ভেনেজুয়েলার উপকূল ত্যাগ করা ১৬টি জাহাজের একটি ছিল। এতে প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল ‘মেরে ১৬’ গ্রেডের অপরিশোধিত তেল ছিল, যা ভেনেজুয়েলার একটি পরিচিত তেলের ধরন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি আগে কুক দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী হিসেবে নিবন্ধিত ছিল এবং ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। পরে এটি কুরাসাও দ্বীপের ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল এবং চীনা একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল বলে শিপিং তথ্যব্যবস্থায় উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন দেশে-বিদেশে তেল উত্তোলন সম্প্রসারণের নীতি অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে আলাস্কার আর্কটিক ন্যাশনাল ওয়াইল্ডলাইফ রিফিউজ এলাকাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ার এ নীতি এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহু দ্বীপরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
-বেলাল










