তিস্তা নদী দ্বারা বিভক্ত একই ইউনিয়নের দুই অংশ, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ জনগণ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে “তিস্তা ইউনিয়ন পরিষদ” নামে একটি পৃথক ইউনিয়ন গঠনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশাল আয়তন, বিপুল জনসংখ্যা এবং তিস্তা নদীজনিত ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ হিমশিম খাওয়ায় এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের দাবি জোরালো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডকে তিস্তা নদী কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। নদীর একপারে সাড়ে ৪টি ওয়ার্ড এবং অন্যপারে বাকি সাড়ে ৪টি ওয়ার্ড অবস্থিত। বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি নদীর একপ্রান্তে হওয়ায় অন্য প্রান্তের মানুষকে সামান্য দাপ্তরিক কাজের জন্যও নদী পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

প্রস্তাবিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাদের মৌজাগুলোর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। দুর্গম চরাঞ্চল ও কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য বিষয়। বিশেষ করে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাতা সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে টেপা খড়িবাড়ী ইউনিয়নের মোট আয়তন ৩১.৭১ বর্গকিলোমিটার, যা একটি আদর্শ ইউনিয়নের তুলনায় অনেক বেশি। এখানকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ এবং ভোটার সংখ্যা ১৫,৮০২ জন। এর মধ্যে ১, ২, ৩ (একাংশ), ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ এবং ভোটার ৭,৩৫০ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে একটিমাত্র পরিষদের মাধ্যমে সেবা দিতে গিয়ে উন্নয়ন বৈষম্য ও সেবার মান হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। জনগণের পক্ষ থেকে নতুন যে ইউনিয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে তার বিস্তারিত রূপরেখা নিম্নরূপ:

প্রস্তাবিত নাম: “তিস্তা ইউনিয়ন পরিষদ”।

অন্তর্ভুক্ত মৌজা: পূর্ব খড়িবাড়ী ও চর খড়িবাড়ী (বর্তমান ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নং এর একাংশ এবং ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ড)।

সম্ভাব্য আয়তন ও জনসংখ্যা: আয়তন ১৪ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১৫,০০০ জন।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। পৃথক ইউনিয়ন গঠিত হলে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষ সুষম উন্নয়ন বাজেটের সুবিধা পাবে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা কমবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।