পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জনবল নিয়োগে নজিরবিহীন দুর্নীতি, জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এই রিটটি দায়ের করা হয়। রিটকারীর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ জানান, রূপপুরের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত প্রকল্পে অদক্ষ ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবস্থান দেশের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিটের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে (এনপিসিবিএল) ১ হাজার ৮০০-র বেশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৪০০ জনকে রাশিয়ায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে:
জাল সনদ ও ঘুষ: ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ভুয়া অভিজ্ঞাপত্র ও জাল সনদধারী ব্যক্তিদের স্থায়ী পদে বসানো হয়েছে।
রাজনৈতিক আশীর্বাদ: অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট অদক্ষ ও অসৎ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: দক্ষ জনবলের পরিবর্তে ‘ঘুষের বিনিময়ে’ অদক্ষদের নিয়োগ দেওয়ায় প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি প্রতিটি নিয়োগের নথিপত্র, আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ যাচাই করবে। বিশেষ করে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগপ্রাপ্তদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
–লামিয়া আক্তার










