কুয়ালালামপুরে অপস সাপু অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন আটক

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাস এলাকার তামান এমাসে চালানো সমন্বিত ‘অপস সাপু’ অভিযানে বাংলাদেশের ৫৬ জন নাগরিকসহ মোট ২১৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রাজধানীর একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল ও আশপাশের আবাসিক এলাকায় পরিচালনা করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ড্রোন ও তাপ শনাক্তকারী সেন্সরের সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী আটক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের আধিক্য ও অবৈধ বসবাসের অভিযোগ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন সদর দপ্তর, নেগেরি সেম্বিলান ও পেরাক রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের মোট ২৭৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এ ছাড়া জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর ১০ জন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে মোট ১ হাজার ৮৭ জনকে যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ কাগজপত্র না থাকা, পাসের শর্ত ভঙ্গ, নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থান, স্বীকৃত নয় এমন পরিচয়পত্র বহনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অপরাধে ইমিগ্রেশন আইনের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ ভবনের ছাদে, কেউ সিলিংয়ের ওপর লুকিয়ে পড়েন। তবে তাপ শনাক্তকারী সেন্সরযুক্ত ড্রোনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। এতে অভিযানের সফলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানায়, দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ আইন ২০০৭-এর আওতায় নিয়মিত অভিযান চলবে। অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার, বিচার ও নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

আফরিনা সুলতানা/