ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী। সম্প্রতি ইরান এই এলাকায় সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে চলাচলি সীমিত করায় এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের নৌ-উপস্থিতি জোরদার করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণে অবস্থিত মাত্র ৩৩ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালীটি মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রধান ধমনী। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পার হয়েছে, যার বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান দিয়ে যাওয়া জ্বালানির প্রায় ৮৪ শতাংশই চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে যায়। ফলে এই পথে সামান্যতম অচলাবস্থা তৈরি হলেও এশিয়ার অর্থনীতিতে তার ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সামরিক কৌশলগত দিক থেকে হরমুজ প্রণালীর অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এর শিপিং লেনগুলো ইরান ও ওমানের জলসীমানার মধ্যে পড়ায় তেহরান এখানে ভৌগোলিক সুবিধা ভোগ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যদি খনি বা দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে এই পথে যাতায়াত ব্যাহত করে, তবে বিকল্প পথে তেল সরবরাহের ক্ষমতা সৌদি আরব বা আমিরাতের জন্য অত্যন্ত সীমিত হবে।
গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পরিবহন খরচ বাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির জোয়ার তৈরি করতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
-সাইমুন










