ছবির শুরুতেই এক ভয়াবহ দৃশ্য দিল্লির এক সুনসান মেট্রো স্টেশনের বাইরে স্কুলশিক্ষিকা পরিমাকে তুলে নেয় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক। চলন্ত গাড়িতে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং অর্ধনগ্ন অবস্থায় রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় এক যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় পরিমাকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যায়।
পরিমার পরিবার স্বামী বিনয় ও ছেলে ধ্রুব সাধারণ হলেও ভালোবাসায় ভরা। বিনয়, যে সুপারমার্কেটে কাজ করেন, স্ত্রী ও ছেলের পাশে অবিচল থাকে। অতি শারীরিক ও মানসিক আঘাত সত্ত্বেও পরিবারটি ভালোবাসা দিয়ে লড়াই চালিয়ে যায়।
তদন্তে ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তার করা সহজ হলেও আদালতে দোষ প্রমাণ করা কঠিন। পরিমার পাশে দাঁড়ায় আইনজীবী রাভি (তাপসী পান্নু)। আদালতের লড়াইয়ে উঠে আসে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, পুলিশি দুর্নীতি, অর্থবলের প্রভাব। অভিযুক্তদের একজনের বাবা অর্থবল ব্যবহার করে মামলা অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে।
গল্প এগিয়ে যায় আইনি বিচার ও প্রতিশোধের দ্বন্দ্বে। ছাতাধারী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির আবির্ভাব হয় এবং অভিযুক্ত কয়েকজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
অভিনয়ে তাপসী পান্নু শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছেন। মোহাম্মদ জিশান আয়ুবের চরিত্রে গভীরতা থাকলেও আরও বিস্তৃত ব্যবহার করা যেত। কানি কুসরুতি, কুমুদ মিশ্রা, মনোজ পাহওয়া ও রেবতী যথাযথ মানানসই। নাসিরুদ্দিন শাহকে আরও ব্যবহার করা হলে ভালো লাগত।
কিছু অংশে কাহিনি খানিকটা বিক্ষিপ্ত মনে হলেও শেষ পর্যন্ত ছবিটি ভাবনায় নাড়ায়। অসসি কেবল সিনেমা নয়, নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়ের এক কঠিন প্রশ্ন। কখন এমন সময় আসবে, যখন নারীরা নিঃসংকোচে স্বাধীনভাবে চলতে পারবে—এই প্রশ্ন ছবির শেষে দীর্ঘ সময় ধরে মনে থাকে।
-বিথী রানী মণ্ডল










