রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও নবনিযুক্ত ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু তার তিন দিনের বর্ণাঢ্য সফর শেষে রোববার বিকেলে আকাশপথে ঢাকায় ফিরেছেন। এই সফরে তার ‘মেয়র আমলের’ সেই চিরচেনা সাধারণ জীবনযাপন সাধারণ মানুষের নজর কাড়লেও, মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও সরকারি প্রটোকল ও পাজেরো গাড়ি ছেড়ে রিকশায় চড়ে শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। প্রতিদিনের মতো সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে চায়ের দোকানে বসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন তিনি। একুশের প্রথম প্রহরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। মন্ত্রীর এমন নিরহংকার আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহীবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
মন্ত্রীর পুরো সফরে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানকে (রিটন) কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এমনকি মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর আনুষ্ঠানিকতায়ও ছিলেন না তারা।
শহীদ মিনার প্রসঙ্গ: মন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিলেও এই দুই নেতা অনুসারীদের নিয়ে আলাদাভাবে রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।
দাওয়াত ও মান-অভিমান: গত শুক্রবার সার্কিট হাউসে প্রশাসনের সঙ্গে মন্ত্রীর সভায় সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল উপস্থিত থাকলেও ডাক পাননি মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মামুন-অর-রশিদ ও মাহফুজুর রহমান দুজনেই মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী। সার্কিট হাউসের সভায় তাদের না ডেকে সাবেক মেয়র বুলবুলকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে সভাপতি মামুন-অর-রশিদ এই দূরত্বকে অস্বীকার করে বলেছেন, “রমজানের কারণে তাড়াহুড়া থাকায় আলাদাভাবে ফুল দিয়েছি, বিষয়টি অন্য কিছু নয়।”
সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানান, “ওরা আমার ছোট ভাই। কে কার পাশে বসবে-তা নিয়ে হয়তো কিছু থাকতে পারে। তবে আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।”
এদিকে, মন্ত্রীর সফরের মধ্যেই রোববার সকালে মহানগর যুবদলের বিভিন্ন কমিটিতে সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেছেন পদবঞ্চিতরা, যা স্থানীয় রাজনীতিতে অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।
–লামিয়া আক্তার










