পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে ইরান। সম্প্রতি সমাপ্ত হওয়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্মার্ট কন্ট্রোল মহড়া থেকে পাওয়া তথ্য ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইরানের যুদ্ধজাহাজগুলো এখন আর কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই বরং এগুলো এখন একেকটি ভ্রাম্যমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই মহড়ায় ইরানের অত্যাধুনিক শহীদ সায়্যাদ শিরাজি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রথমবারের মতো ‘সায়্যাদ ৩-জি’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
সুলাইমানি ক্লাসের তৃতীয় যুদ্ধজাহাজ হিসেবে পরিচিত এই ‘সায়্যাদ শিরাজি’ বর্তমানে বিশাল আকারের ভার্টিক্যাল লঞ্চ সিস্টেমের (লম্বালম্বিভাবে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা) ছয়টি সাইলো বহন করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে যুদ্ধজাহাজটিকে এখন আর লক্ষ্যবস্তুর দিকে মুখ করে ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতে হয় না বরং এটি যেকোনো দিক থেকে আসা আক্রমণকে মুহূর্তের মধ্যে রুখে দিতে সক্ষম।
সায়্যাদ ৩-এফ ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ-সংস্করণ হিসেবে পরিচিত এই ৩-জি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে শত্রুঘাঁটির যুদ্ধবিমান, উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সক্ষমতা ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় জলসীমায় একটি বিশাল এয়ার ডিফেন্স বাবল (আকাশ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা বলয়) তৈরি করেছে। উল্লম্ব উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির কারণে এই জাহাজগুলো এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যা মূলত বড় আকারের সমন্বিত হামলা মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। এর ফলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে কার্যত একেকটি ভাসমান দুর্গে পরিণত করেছে।
-সাইমুন










