পটুয়াখালীর দশমিনায় একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের চরম বাধার মুখে পড়েছে পুলিশ। ‘বিএনপির লোক থানায় নিতে পারবেন না’-এমন ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে ঘিরে রেখে বাগবিতণ্ডায় জড়ান উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দশমিনা উপজেলা সদরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে চরবোরহান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব হোসেনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় গণঅধিকারের কর্মীরা। দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন যখন রাকিবকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল নেতা আবুল বশার পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, “বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। যদি নিতে হয়, দুই আসামিকেই নিতে হবে।” ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এ সময় পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ দেখতে চান এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রাকিবকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের দাবি, রাকিবকে গণঅধিকারের নেতারা অন্যায়ভাবে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি কেবল এর প্রতিবাদ করেছেন।
দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মিলন খান জানান, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে পুলিশ ধরেছে, এখানে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উল্টো ছাত্রদল নেতাকর্মীরা পুলিশের সামনেই তার গায়ে হাত তুলেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দশমিনা থানার এসআই মনির হোসেন জানান, আসামি রাকিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেপ্তার করার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কাজে বাধা দিলেও পরে পরোয়ানা দেখানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে রাকিবকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।