নেত্রকোণা জেলায় সংসদীয় আসন ৫টি। এই ৫টি আসনের মধ্যে নেত্রকোণা সদর আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন (আইনজীবী) একমাত্র নারী নেত্রী হিসেবে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়েও দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করেছেন।
নেত্রকোণা-২ (নেত্রকোণা সদর-বারহাট্টা) সংসদীয় আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একমাত্র নারী নেত্রী ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন ভোটের মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ করেছিলেন।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপির চরম দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তিনি বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নারী সমাজের অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বিগত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাবেক সহ-সভাপতি, নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা মহিলা দলের সাবেক আহ্বায়ক এবং জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি।
ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব, জেলা মহিলা সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান, প্রতিষ্ঠাতা নেত্রকোণা রাবেয়া আফজাল শিশু নিবাস, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা-এর সাবেক ইসি সদস্য, জেলা লেডিস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ উইমেন্স ল’ইয়ার নেটওয়ার্কের সাবেক ইসি সদস্য, বাংলাদেশ পিপলস হেলথ মুভমেন্টের সাবেক ইসি সদস্য, সদস্য বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি এবং নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।
আরও জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় জাহাঙ্গীর গেটের দিকে প্রবেশ করলে আর্মির বুটের আঘাতে তিনি কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা পান, যার কষ্ট এখনো বহন করছেন। উচ্ছেদের পর হরতালে পিকেটিংকালে রাজপথে তিনি পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত ও গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি ৩৬ ঘণ্টার হরতাল চলাকালে পল্টন থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ২৯ ডিসেম্বর ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালায় এবং ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর দুই দিন বেআইনিভাবে আটক রাখে।
২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হলে সকাল ৯টায় গুলশান অফিসে খোঁজ-খবর নিতে গেলে গুলশান থানা পুলিশ টানা-হেঁচড়া ও হয়রানির মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ তৎকালীন সরকার বিচ্ছিন্ন করার পর মোমবাতি ও খাবার সরবরাহ করে ফেরার সময় গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে থেকে পুলিশ তাকে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করে।
বেগম খালেদা জিয়া ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পরদিন নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে তার খোঁজ-খবর নিতে ও ফলমূল নিয়ে গেলে ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় নেত্রকোণা জেলা শহরের রাজপথ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে মামলা দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠায়। ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাইকোর্ট, শহীদ মিনার ও শাহবাগে মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে নেত্রকোণা সদর-বারহাট্টা আসনের তৃণমূল নেতৃবৃন্দসহ জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করছেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
তিনি জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। সবসময় সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। দলের দুঃসময়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা দিয়েছেন। জেলা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় তার বাসায় একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোণা ল’ কলেজও দখল করা হয়েছিল বলে জানান।
ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন বলেন, “আমার ঠিকানা বিএনপি ও জিয়া পরিবার। আমি সবসময় দলের জন্য কাজ করেছি এবং রাজপথে থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তাই আমিও প্রত্যাশা করি, আমাকে মনোনয়ন দিলে প্রিয় নেতা ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করতে পারব।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের হাইকমান্ড তাকে মহান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করবেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মহিলা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন অ্যাডভোকেট ডক্টর আরিফা জেসমিন নাহিন।
– সালাহ উদ্দীন খান রুবেল, নেত্রকোণা










