দীঘিনালায় ২ শতাধিক মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে শীত মানেই বাড়তি কষ্ট। ভৌগোলিক অবস্থান ও দারিদ্র্যের কারণে শীতের মৌসুমে এখানকার দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে বেড়ে যায়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে দীঘিনালা উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানবিক সহায়তার এক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে নয়মাইল ও বুদ্ধপাড়া এলাকায় বসবাসরত ২ শতাধিক শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলো, যাদের শীত নিবারণের সামর্থ্য সীমিত, তারাই এই সহায়তার প্রধান উপকারভোগী।

এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. ওমর ফারুক, পিএসসি-এর নির্দেশনায়। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন মেজর মো. তৌকির আহমেদ, এসইউপি, পিএসসি (ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক), ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল আজমী, লে. আজমাঈন আহনাফ বিন খালেদ এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার জয়নুল আবেদীন।

কর্মসূচি চলাকালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন শীত মৌসুমে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এই অঞ্চলের জনগণের পাশে দাঁড়ানো সেনাবাহিনীর সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো সংবেদনশীল ও দুর্গম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মানবিক ভূমিকা শুধু ত্রাণ কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাষ্ট্র ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ি এলাকায় রাতের বেলা তাপমাত্রা হঠাৎ করে নেমে আসে। এই অবস্থায় সেনাবাহিনীর দেওয়া কম্বল তাদের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

উপকারভোগীদের অনেকেই বলেন-
এই সহায়তা আমাদের শীতের কষ্ট কমানোর পাশাপাশি আমাদের কথা কেউ ভাবছে—এই অনুভূতিটাও দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম পাহাড়ি জনপদে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করবে।

-মো. লোকমান হোসেন,দীঘিনালা