২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা ও তথ্যভান্ডার এথনোলগ (বিশ্ব ভাষা তথ্যভান্ডার)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৭ হাজারের বেশি ভাষা প্রচলিত থাকলেও এর প্রায় ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ ভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ৭,১৫৯টি ভাষার মধ্যে ৩,১৯৩টি বিপন্ন, ৩,৪৭৯টি স্থিতিশীল এবং ৪৮৭টি প্রাতিষ্ঠানিক-অর্থাৎ সেগুলো সরকার, শিক্ষা ও গণমাধ্যমে ব্যবহৃত হয়।
কোন অঞ্চলে বেশি বিপন্ন ভাষা?
বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ বিপন্ন ভাষা মাত্র ২৫টি দেশে কেন্দ্রীভূত। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ওশেনিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন ভাষা রয়েছে। এরপর রয়েছে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকা মহাদেশ।
অঞ্চলভিত্তিক উদাহরণ
ওশেনিয়া:
অস্ট্রেলিয়া-এর আদিবাসী ভাষা ‘ইউগামবেহ’ বর্তমানে বিপন্ন। সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে ভাষাটি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চলছে।
এশিয়া:
জাপান -এর আইনু ভাষা মারাত্মকভাবে বিপন্ন। ইউনেস্কো-এর তথ্য অনুযায়ী, ভাষাটির বক্তার সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট ভাষা পরিবারের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত নয়।
আফ্রিকা:
ইথিওপিয়া -এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত ওঙ্গোটা ভাষা প্রায় বিলুপ্তির পথে। হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ এই ভাষায় কথা বলেন।
আমেরিকা মহাদেশ:
ইউনাইটেড স্টেট -এ প্রচলিত লুইজিয়ানা ক্রিওল একটি ফরাসিভিত্তিক মিশ্র ভাষা, যা গুরুতরভাবে বিপন্ন।
এছাড়া বলিভিয়া -এর লেকো ভাষাও বর্তমানে কেবল প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ইউরোপ:
ইউনাইটেড কিংডম-এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যবহৃত কর্নিশ ভাষা একসময় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলেও পুনরুজ্জীবন প্রচেষ্টার ফলে এখন এটি বিপন্ন ভাষা হিসেবে টিকে আছে।
কেন ভাষা বিপন্ন হয়?
ভাষাবিদদের মতে, যখন কোনো সম্প্রদায়ের নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষার পরিবর্তে প্রভাবশালী বা রাষ্ট্রভাষা ব্যবহার শুরু করে, তখন সেই ভাষা ধীরে ধীরে বিপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় ৮৮ মিলিয়ন মানুষ তাদের মাতৃভাষা হিসেবে একটি বিপন্ন ভাষায় কথা বলেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী—
১,৪৩১টি ভাষার মাতৃভাষী ১,০০০ জনের কম। ৪৬৩টি ভাষার বক্তা ১০০ জনের কম। ১১০টি ভাষার বক্তা ১০ জনেরও কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতিগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণে বৈশ্বিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।
-বেলাল










