শিক্ষার্থীর নাক ফাটানোর ঘটনায় জড়িত ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধর করে নাক ফাটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিকের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিককে দুই মাসের জন্য তার পদ থেকে স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তিন তলার ছাদে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৩-১৪ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী ও কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। তার সঙ্গে ছিলেন একই সেশনের মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ২০১৭-১৮ সেশনের তরিকুল এবং ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সিফাত।

ঘটনায় তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। ভুক্তভোগীরা হলেন—অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য, একই সেশনের নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ নিবিড়। এর মধ্যে সৌরভ কাব্যের নাক ফেটে রক্ত বের হলে তাকে তাৎক্ষণিক কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি দাবি করেন, কাব্যের নাকের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে দেখানো হবে। ভুক্তভোগীরাও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আতিকুর রহমান কাউকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং একই কক্ষে ২০২৫-২৬ সেশনের আরেক ছাত্রদল কর্মীকেও তোলেন। এছাড়া সিফাত নামে একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হলের সিনিয়রদের অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সিটে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এ সময় মৌখিক বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় অভিযোগ করেন, ‘আমরা ছাদে ছিলাম। এ সময় আতিক এসে আমার কলার ধরে চড় মারে। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভকে নাকে ঘুষি মারা হয়। আমার হাতও ধাক্কা দিয়ে মচকে দেওয়া হয়। আতিক আমার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। সে আমাকে রাজনৈতিকভাবে মেরেছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভ’র উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান করা হবে।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

-বেলাল