গাজায় ৫০ মিলিয়ন ডলারের স্টেডিয়াম দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ফিফার

ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গভীর মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। নিরবচ্ছিন্ন সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় অবকাঠামো। এতে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য, পানি, চিকিৎসাসেবা ও আশ্রয়ের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো মহল্লা, ভেঙে পড়েছে পানি শোধনাগার, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সড়ক ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক।
খাদ্য উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে জরুরি অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গাজায় স্টেডিয়াম নির্মাণে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার দর্শকের। পাশাপাশি ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি ফিফা ট্রেনিং একাডেমি, ২.৫ মিলিয়ন ডলারে ৫০টি মিনি পিচ ও ১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে ফিফার।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠক থেকে ঘোষণা আসে। ওই বৈঠকে নয়টি দেশ গাজার পুনর্বাসন তহবিলে সাত বিলিয়ন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করে। এছাড়াও আরও পাঁচটি দেশ একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা পাঠাতে সম্মত হয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘কেবল ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল বা সড়ক পুনর্নির্মাণ করলেই হবে না; মানুষের আশা, আবেগ ও আস্থাও পুনর্গঠন করতে হবে।’ তার ভাষায়, ফুটবল বিশ্বজনীন ভাষা-যা মানুষকে একত্রিত করে এবং আশা জাগায়।
উল্লেখ্য, গাজার নিজস্ব কোনো জাতীয় ফুটবল দল নেই। গাজা ও পশ্চিম তীর মিলিয়ে ফিলিস্তিনি দল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। দলটি ১৯৯৮ সালে ফিফার স্বীকৃতি পেলেও এখনো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইনফান্তিনোর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং বোর্ডে যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অনুপস্থিতিকে গুরুত্বহীন বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, ‘প্রায় সবাই কোনো না কোনো দেশের প্রধান, আর উনি ফুটবলের প্রধান- এটাও মন্দ নয়।’
-বেলাল