সুদানের করদোফানে আরএসএফ ড্রোন হামলায় ৩ ত্রাণকর্মী নিহত, আহত ৪

সুদানের দক্ষিণ করদোফান রাজ্যে ত্রাণবাহী একটি কনভয়ে ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ত্রাণকর্মী নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। দেশটির চিকিৎসক সংগঠন জানিয়েছে, আধাসামরিক বাহিনী র‍্যপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) এই হামলা চালিয়েছে। চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে বেসামরিকদের ওপর সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটল। খবর আলজাজিরার।

বৃহস্পতিবার করদোফানের কারতালা এলাকায় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বহনকারী ট্রাকগুলোর বহরটি কাদুগলি ও ডিলিং শহরের দিকে যাচ্ছিল। সে সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়। চিকিৎসক নেটওয়ার্কের অভিযোগ, আরএসএফ ও তাদের মিত্র  সুদান পিপলস লিবারেশন মোভমেন্ট এই হামলায় জড়িত।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে মানবিক সহায়তাবাহী কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষার সব নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা জানায়, এক মাসেরও কম সময়ে এটি দ্বিতীয় হামলা; এর আগে আল-রাহাদ শহরে জাতিসংঘের একটি ত্রাণবাহী কনভয় গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছিল।

সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ত্রাণকর্মী ও সহায়তা করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সর্বশেষ হামলার ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এর এক মাস আগে সরকার-সমর্থিত এসএএফ দাবি করে, তারা ডিলিং শহরে প্রায় দুই বছর ধরে চলা আরএসএফের অবরোধ ভেঙে দিয়েছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও এসএএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রাজধানী খার্তুম থেকে পিছু হটার পর আরএসএফ করদোফান অঞ্চল ও দারফুরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর এল-ফাশারে অভিযান জোরদার করে।

গত অক্টোবর এল-ফাশার দখলের পর সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

বুধবার প্রকাশিত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান মিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশার অবরোধ চলাকালে আরএসএফ অনারব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সমন্বিত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, যার মধ্যে গণহত্যার স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে। মিশনটি জানায়, গণহত্যার পাঁচটি মানদণ্ডের অন্তত তিনটি পূরণ হয়েছে—এর মধ্যে রয়েছে জাঘাওয়া ও ফুর জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন এবং গোষ্ঠীটিকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে জীবনযাপনের অনুপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র এল-ফাশার অবরোধ ও দখলে ভূমিকার অভিযোগে আরএসএফের কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

-বেলাল