ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ নেওয়ায় অবসান ঘটেছে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের। ফলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’র বাসিন্দাও বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে যমুনায় অবস্থানরত সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তার গুলশানের বাসভবনে ফিরে যাবেন। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যমুনাকেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করবেন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে টানা ১৮ মাস (৫৫৯ দিন) যমুনায় অবস্থান করার পর ড. ইউনূস এখন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তার ব্যক্তিগত জীবনে ফিরছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর শপথের পরপরই তিনি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছেড়ে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গুলশানে তার নিজস্ব বাসভবনে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ হলে তিনি সপরিবারে সেখানে উঠে যাবেন।
আগামী সপ্তাহ থেকেই তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনূস সেন্টার’-এ নিয়মিত বসবেন। এছাড়া নবঅনুমোদিত ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ (দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) তদারকির দায়িত্বেও তিনি সরাসরি যুক্ত হবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গণভবন বর্তমানে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নিয়ে জল্পনা ছিল। তবে ডিএমপি ও গণপূর্ত অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেয়ার রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই তার সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
যমুনা বর্তমানে ড. ইউনূসের অধীনে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিন্যাস ও সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ভবনটি খালি হওয়ার পর সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে এটি ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। তবে ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি মীর আসাদুজ্জামান ধারণা করছেন, সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে।
দায়িত্ব ছাড়লেও ড. ইউনূস দেশেই থাকছেন। তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি জাপানের ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’-এর আমন্ত্রণে ৫ দিনের সফরে টোকিও যাবেন। সফর শেষে তিনি পুনরায় দেশে ফিরে তার ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) মিশন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।
–লামিয়া আক্তার










