ভারতে আয়োজিত বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের চতুর্থ দিনে (বৃহস্পতিবার) প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সমতার প্রশ্নে বিশ্বনেতারা জোরালো মতামত তুলে ধরেছেন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। খবর আলজাজিরার।
জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ “কয়েকজন বিলিয়নিয়ারের খেয়ালখুশির ওপর” ছেড়ে দেওয়া যায় না। তিনি প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে সবার জন্য উন্মুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিশ্চিত করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিলে অবদান রাখা হয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপ কেবল নিয়ন্ত্রণ আরোপে মনোযোগী নয়; উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ভারতের মতো মিত্রদের সঙ্গে মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নীতিমালা নির্ধারণে কাজ করার কথা জানান।
সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারতে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল সফল হবে, তা বিশ্বজুড়েই প্রয়োগ করা সম্ভব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রযুক্তি তখনই মানবকল্যাণে কাজে আসবে, যখন এর মূল কাঠামো উন্মুক্ত থাকবে এবং তা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে মানুষ ও বুদ্ধিমান প্রযুক্তি একসঙ্গে সৃষ্টি করবে, কাজ করবে এবং বিকশিত হবে।”
পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি ২০২৩ সাল থেকে ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ। এবারের আলোচ্যসূচিতে কর্মসংস্থান সংকট, শিশু সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক নীতিমালা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে সম্মেলনে একটি বড় অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস নির্ধারিত বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্মেলনের মূল আলোচনায় যেন অন্য কোনো বিষয় প্রভাব না ফেলে, সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত প্রথম বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন হিসেবে এটি ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক সূচকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিযোগিতায় ভারত তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টেকসই অবস্থান নিতে হলে দেশটিকে অবকাঠামো ও গবেষণায় আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাঁচ দিনব্যাপী সম্মেলনটি শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণে ব্যবহৃত হয়-সে লক্ষ্যেই বিশ্বনেতারা একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
-বেলাল










