ভিন্নমতকে স্বাগত জানানোর আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক তিক্ততা ও দমন-পীড়নের ইতি টেনে এক নতুন ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য ভিন্নমতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বর্তমান সরকারি দল (বিএনপি) এবং আমরা—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে চরম দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না। ক্ষমতার পালাবদল মানে যেন প্রতিশোধের পালাবদল না হয়।”
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বার্তায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন: “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। ভিন্নমত দমন নয়—বরং সেটিকে স্বাগত জানানোই হোক আমাদের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধীদলীয় নেতার এই উদারপন্থী অবস্থান দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে নতুন সরকার যখন সংস্কারের কাজ শুরু করেছে, তখন প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহনশীলতার এই বার্তা রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে বড় ভূমিকা রাখবে।
ডা. শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি একটি পরিচ্ছন্ন ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় এই রাজনৈতিক সংস্কারের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মতের ভিন্নতা থাকলেই কেবল সমাজ ও রাষ্ট্র সঠিক পথে চলতে পারে।
লামিয়া আক্তার