নতুন সরকারকে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণে নিছক আবেগের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি সুসংহত মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘ম্যাক্রোইকোনোমিক বেঞ্চমার্ক ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আসন্ন ২০২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় বাজেট কাঠামো প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি রাজস্ব আহরণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন না করলে আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য সূচকসহ একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন বক্তারা।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মোস্তাফিজুর রহমান-এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে একটি বহুপক্ষীয় (মাল্টি-স্টেকহোল্ডার) উন্নয়ন ফোরাম গঠনের সুপারিশ করা হয়। এই ফোরামে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের মাধ্যমে টেকসই সংস্কার সম্ভব হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক প্রতিশ্রুতি থাকে, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হতে পারে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে নতুন সরকারের পক্ষে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে সিপিডি মনে করে।