নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের জন্য একটি ভয়মুক্ত ও স্বাধীন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের পথে গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা রাজপথের কর্মীদের চেয়ে কম ছিল না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে নতুন সরকার তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।”
জহির উদ্দিন স্বপন দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো একেকটি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। সরকার যেভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করছে, গণমাধ্যমকেও ঠিক একইভাবে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা জানানো হবে।”
তথ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “সাংবাদিকদের সবসময় নজরদারির মধ্যে রেখে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। তাই এই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজবের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে এটি বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির এই ক্ষমতার যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনি নেতিবাচক চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। সরকার এই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ করবে।”
নিজে একজন নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জেল-জুলুম ও ভয়ভীতির মানসিক চাপ সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন বলে জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “গণমাধ্যমের মতো সম্মানিত পেশায় যারা কাজ করেন, তাদের যদি সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়, তবে তা রাষ্ট্রের জন্য কাম্য নয়।”
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ও সংস্কার পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আজ বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন। এ সাক্ষাৎ ছিল একটি সৌজন্য বিনিময় এবং আগামীতে তিনি গণমাধ্যমের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসবেন।
আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী, আজ বিকেলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন কোনো গণমাধ্যম নীতিমালা বা বিশেষ এজেন্ডা সংক্রান্ত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
-এমইউএম










