দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জেলা নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এটিকে দলের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও, নতুন জাতীয় মন্ত্রিসভায় জেলা থেকে কোনো পূর্ণমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী স্থান না পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নোয়াখালী দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী জেলা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই জেলার বিভিন্ন আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে এবারের মন্ত্রিসভা গঠনে সেই ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, পাঁচটি আসনে বিজয়ের পরও মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না থাকা জেলার জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের মতে, ভোটারদের আস্থা, রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক শক্তির বিবেচনায় অন্তত একজন সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারত।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভারসাম্য, দলীয় কৌশল এবং জাতীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব না থাকাও বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে নোয়াখালীর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা ভবিষ্যতে সরকার পুনর্গঠন বা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর প্রতি নোয়াখালীর পক্ষ থেকে জাতীয় মন্ত্রিসভায় একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহল বলছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কৌশলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবে।
হামিদুল হক (রিপন), নোয়াখালী










