সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দুই দিনের শান্তি আলোচনা বুধবার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। মাত্র দুই ঘণ্টা চলা এই বৈঠক থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসেনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই আলোচনাকে কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চার বছরের যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তি করার পথে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে হল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিনে দুইবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শান্তি আলোচনার সাফল্য নিশ্চিত করাটা একমাত্র ইউক্রেন ও জেলেনস্কির ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনা শেষে জেলেনস্কি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন। কারণ আলোচনা ছিল অত্যন্ত জটিল ও কঠিন।”
তিনি এক্সে এক পোস্টে লেখেন, “আমরা বলতে পারি যে, রাশিয়া আলোচনাকে টেনে লম্বা করার চেষ্টা করছে, যা ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত।”
জেলেনস্কির এই বক্তব্যের পর বৈঠকের প্রতিনিধিরা আলোচনা শেষ করে উঠে যান এবং বলেন, তারা ভবিষ্যতে আবার বৈঠক করবেন। তবে সেটি কবে তা জানাননি তারা।
ট্রাম্পের চাপ ও জেলেনস্কির অসন্তোষ:
মার্কিন ওয়েবসাইট ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনার শর্ত হিসেবে রাশিয়ার পরিবর্তে বারবার শুধু ইউক্রেনকেই ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, যা মোটেও ‘ন্যায়সঙ্গত নয়’।
গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ইউক্রেনের উচিত দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসা। আমি শুধু এটুকুই বলছি।”
ওদিকে, জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার দখলে নেই এমন কোনো অঞ্চল (পূর্ব ডনবাস) ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে ইউক্রেনের জনগণ তা গণভোটে প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, “আমি আশা করি এটি (ইউক্রেনকে চাপ দেওয়া) কেবলই তার (ট্রাম্প) রণকৌশল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।”
ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্পৃক্ততার দাবি:
শান্তি প্রক্রিয়ায় ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় মিত্রদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। জেলেনস্কির মতে, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য ইউরোপের অংশগ্রহণ ‘অপরিহার্য’।
২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর ঠিক কয়েক দিন আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। চার বছরের এই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
‘খুবই উত্তেজনাকর’ আলোচনা:
ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ বুধবারের আলোচনাকে ‘নিবিড়’ বললেও কোনো বড় অর্জনের কথা জানাননি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি পরবর্তী আলোচনার কোনও দিনক্ষণ উল্লেখ না করেই জানান যে, শীঘ্রই আবার বৈঠক হবে।
রুশ সংবাদ সংস্থাগুলো এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রথম দিনের আলোচনা অত্যন্ত ‘উত্তপ্ত ও উত্তেজনাকর’ ছিল যা প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল। আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ইউরোপের বাজারে ইউক্রেনের সরকারি বন্ডের দাম ১.৯ সেন্ট কমে গেছে।
বর্তমানে ইউক্রেইনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে রয়েছে। শীতের এই তীব্রতায় রাশিয়ার সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
-সাইমুন










