১০ দিনে অর্ধেকে নেমেছে আলুর দাম, বিপাকে কৃষক

উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম সবজির পাইকারি বাজার বগুড়ার মহাস্থানে আলুর ভরা মৌসুমে দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জাতের আলুর দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং হাটে আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন কৃষকেরা। পাইকারি পর্যায়ে বর্তমানে প্রতি কেজি দেশী আলু জাতভেদে ৮ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এই দামে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচই ওঠানো যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টার দিকে মহাস্থান হাট ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের আনা আলু পাশের আড়ত ও হাটজুড়ে স্তুপ করে রাখা। অনেক কৃষক অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে আলু হাটে এনেছেন। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সকালের দিকে বেশির ভাগ কৃষক আলু বিক্রি করেননি। দুপুরের দিকে বাধ্য হয়ে অনেকেই কম দামে আলু বিক্রি করে বাড়ি ফিরেছেন।

কৃষক ও ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ দেশী লাল পাকড়ি আলু ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই আলুই বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৫০০ টাকা মণে। মহাস্থান পাইকারি মোকামে কার্ডিনাল জাতের আলু প্রতি মণ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যেখানে ১০ দিন আগে একই আলু বিক্রি হয়েছিল ৫০০ টাকায়। সাদা গ্রানুলা জাতের আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২২০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪০০ টাকা।

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ১০ দিন আগে তিনি মহাস্থান হাটে আলু বিক্রি করেছিলেন প্রতি কেজি ২০ টাকায়। এখন সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ১০ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমের কোনো মূল্য মিলছে না উল্লেখ করে তিনি জানান, ঋণ করে আলু চাষ করেছেন, সেই দেনা কীভাবে শোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বগুড়ার মহাস্থান হাটের উন্নতমানের আলু দেশের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। বগুড়া জেলার মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলাতেই সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়।

প্রতিদিন মহাস্থান হাটে বিপুল পরিমাণ আলু আসলেও দূর-দূরান্তের পাইকাররা কম আসছেন। সাধারণত এখানকার আলু ঢাকা কারওয়ান বাজার, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরে সরবরাহ হয়। তবে চাহিদা কম থাকায় এসব এলাকার পাইকাররা না আসায় বাজারে দামের পতন ঘটেছে।

মহাস্থানের আলু ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুদিন পর হিমাগারগুলো সংরক্ষণের জন্য আলু কেনা শুরু করলে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

 গোলাম রব্বানী শিপন,মহাস্থান-বগুড়া/