নতুন আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার নিয়োগের গুঞ্জনে সচিবালয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমান্ড স্ট্রাকচারে আমূল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম এবং ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বহাল থাকলেও প্রশাসনিক অন্দরে নতুন নেতৃত্বের নাম নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
আইজিপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা
পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে অন্তত পাঁচজন চৌকস কর্মকর্তার নাম আইজিপি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে:
এ কে এম শহিদুর রহমান: বর্তমানে র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে র‍্যাব পুনর্গঠনে তার ভূমিকার কারণে তিনি শক্তিশালী প্রার্থী। ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাকে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আনা হতে পারে।
দেলোয়ার হোসেন মিঞা: ১২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত।
আলী হোসেন ফকির: এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি এবং ১৫তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা পেশাদারিত্বের জন্য পরিচিত।
মো. ছিবগাত উল্লাহ: বর্তমানে সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মতিউর রহমান শেখ: অবসরপ্রাপ্ত এই অতিরিক্ত আইজিপির নামও অভিজ্ঞতার নিরিখে আলোচনায় রয়েছে।
আনসার উদ্দিন খান পাঠান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার এই সমন্বয়ককেও (গ্রেড-১) সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পারে।
ডিএমপি কমিশনার পদে সম্ভাব্য মুখ
রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে ৩ জনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে:
হাসিব আজিজ: বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ: অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন)।
ফারুক আহমেদ: র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক।
পরিবর্তনের নেপথ্যে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের চুক্তির মেয়াদ আরও প্রায় ৯ মাস বাকি থাকলেও নতুন সরকার নিজেদের নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্ব চায়। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, বর্তমান আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার নিজে থেকেই পদত্যাগ করতে পারেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
প্রশাসনেও রদবদল
শুধু পুলিশ নয়, জনপ্রশাসনেও পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নাসিমুল গনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ জন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীর মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন।

লামিয়া আক্তার