গণভোটের ফল স্থগিতের রিট চ্যালেঞ্জ: আদালতে লড়ার ঘোষণা শিশির মনিরের

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের ফলের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির স্পষ্ট করে বলেন, “গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা রিট মামলা আমরা আদালতে মোকাবিলা করব ইনশাআল্লাহ।”
রিট আবেদনের প্রেক্ষাপট
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে। রিটে বিবাদী করা হয়েছে: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব।
আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীব-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
গণভোটের ফলাফল এক নজরে
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মূল বিষয় ছিল জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার।
ফলাফল: পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়।
ভোটের হার: মোট প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬০.২৬ শতাংশ।
হ্যাঁ ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন।
না ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
আইনজীবী শিশির মনিরের এই ঘোষণা এবং হাইকোর্টে রিট দায়েরের ফলে গণভোটের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রিটের নিষ্পত্তির ওপরই নির্ভর করছে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারের ভবিষ্যৎ।
-লামিয়া আক্তার