সংসদ ভবনে উৎসবের আমেজ: শপথে যোগ দিতে সংসদে প্রবেশ করছেন নবনির্বাচিত এমপিরা

এক সময়ের উত্তাল রাজপথ থেকে এখন সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রে-দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ ভবনে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এই শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই এমপিদের বহনকারী গাড়িগুলো সংসদ ভবনের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

আজকের শপথ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো-সাধারণত স্পিকার এই শপথ পাঠ করালেও এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। নবনির্বাচিত সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবেই নয়, বরং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও আলাদাভাবে শপথ নেবেন।

সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশের পয়েন্টে এমপিদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্যকে প্রথমে শপথ পড়ানো হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে জামায়াতে ইসলামী (৬৮ আসন), জাতীয় নাগরিক পার্টি (৬ আসন) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি নেতাদের জন্য আজকের এই দিনটি অত্যন্ত আবেগঘন। ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঝপথে বর্জন করার কারণে সংসদ ভবনে বিএনপির পদচারণা ছিল না দীর্ঘ এক যুগ। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে আজ তাঁরা বিজয়ী বীরের বেশে সংসদে ফিরছেন।

সকালের এই শপথ গ্রহণ শেষে সবার নজর থাকবে বিকেল ৪টার দিকে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তারেক রহমান। একই সাথে নতুন মন্ত্রিসভাও শপথ গ্রহণ করবে।

লামিয়া আক্তার