সিরিয়া থেকে ৫৭শ আইএস বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর যুক্তরাষ্ট্রের

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ডিটেনশন সেন্টারগুলো থেকে ৫ হাজার ৭ শতাধিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) যোদ্ধাকে সফলভাবে ইরাকি হেফাজতে স্থানান্তর করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকমের তথ্যমতে, গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই বিশাল অভিযানটি দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে পরিচালিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ইরাকে একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে শেষ দফার বন্দিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মূলত কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) পরিচালিত কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরাকের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো-অপারেশন (এনসিআইজেসি) জানিয়েছে, মোট ৫ হাজার ৭০৪ জন বন্দি ইরাকে পৌঁছেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন- সিরীয় নাগরিক ৩ হাজার ৫৪৩ জন, ইরাকি নাগরিক ৪৬৭ জন, অন্যান্য আরব দেশের ৭১০ জন ও ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিক ৯৮০ জনের বেশি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা পুনর্দখল করায় এসডিএফ পরিচালিত কারাগারগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বড় ধরনের কোনো ‘জেল ভাঙা’ বা কারাগার দখলের ঘটনা এড়াতেই বন্দিদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ইরাক এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় গোষ্ঠীটি পরাজিত হলেও হাজার হাজার যোদ্ধা ও তাদের স্বজনরা বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। এখন এই বন্দিদের বিচার প্রক্রিয়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

-এম এইচ মামুন