নিখোঁজের ৬ দিন পর ভারতীয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি বার্কলে থেকে নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ভারতীয় শিক্ষার্থী সাকেত শ্রীনিবাসাইয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি লেক আনজা এলাকা থেকে তার দেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। সাকেতের এই মৃত্যু কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও একাকীত্বের এক করুণ আখ্যান হিসেবে সামনে এসেছে।

সাকেতের রুমমেট বনীত সিং পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এক আবেগঘন পোস্টে তার বন্ধুর শেষ দিনগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। বনীতের মতে, ৯ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার আগের দুই সপ্তাহ সাকেতের আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল। তিনি প্রায় কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং খাবার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কেবল চিপস ও কুকিজ।

বনীত একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে লেখেন, একদিন সাকেত গোসলের বাথরোব পরেই ক্লাসে চলে যান। বন্ধু যখন তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেন, সাকেত উত্তরে বলেছিলেন— “আমি পরোয়া করা ছেড়ে দিয়েছি বন্ধু। কে কী ভাবল তাতে আমার কিছু যায় আসে না।” বনীত আক্ষেপ করে বলেন, তিনি তখন একে ঠাট্টা ভেবেছিলেন, কিন্তু এখন বুঝছেন এটি ছিল চরম মানসিক বিপর্যয়ের সংকেত।

কর্ণাটকের বাসিন্দা সাকেত বার্কলেতে কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাস থেকে এক কিলোমিটার দূরে তাকে শেষবার দেখা যায়। টিলডেন রিজিওনাল পার্কের কাছে তার পাসপোর্ট ও ল্যাপটপসহ ব্যাগটি পাওয়া গেলে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়। দীর্ঘ ছয় দিন পর লেক আনজা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সানফ্রান্সিসকোয় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট সাকেতের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তারা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আইনি সহায়তা দিচ্ছে। কর্ণাটক সরকারও সাকেতের পরিবারকে জরুরি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করছে।

সাকেত শ্রীনিবাসাইয়া ছিলেন এক বিরল মেধার অধিকারী। আইআইটি মাদ্রাজের এই সাবেক শিক্ষার্থী হাইপারলুপের জন্য ‘মাইক্রোচ্যানেল কুলিং সিস্টেম’ আবিষ্কারের পেটেন্টধারী ছয়জন উদ্ভাবকের একজন ছিলেন। তার সহকর্মীরা তাকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান, বিনয়ী ও বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন।

সাকেতের এই অকাল মৃত্যু প্রবাসে বসবাসরত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য ও একাকীত্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বনীতের ভাষায়, “জীবনের বিপরীত শব্দ মৃত্যু নয়; বরং উদাসীনতা—সবকিছুর প্রতি মায়া ত্যাগ করা। আর সেই উদাসীনতাই তাকে নিজের জীবনের প্রতিও বেপরোয়া করে তুলেছিল।”

-এম. এইচ. মামুন