যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোস আবারও মহাকাশ প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি। তাঁদের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিন চাঁদে মানুষ ফেরত পাঠানো এবং স্থায়ী অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা জোরদার করেছে লক্ষ্য, ২০৩০ সালে নির্ধারিত চীনের চন্দ্রাভিযানের আগেই এগিয়ে থাকা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী মাস্ক ‘মুনবেস আলফা’ নামে একটি চন্দ্রঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন। তিনি চাঁদের মাটিতে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও স্থাপন করতে চান, যা ভবিষ্যতে বৃহৎ এআই কম্পিউটিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। সম্প্রতি স্পেসএক্স মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই অধিগ্রহণ করেছে, যা এই কৌশলকে আরও বেগবান করেছে।
অন্যদিকে, ব্লু অরিজিন তাদের সাবঅরবিটাল স্পেস ট্যুরিজম কার্যক্রম বন্ধ করে চাঁদে অবতরণযান ‘ব্লু মুন’ প্রকল্পে অধিক সম্পদ বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর একটি মানববিহীন মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নভোচারী অবতরণের পথ সুগম করবে।
চাঁদে ফেরার কর্মসূচি বাস্তবায়নে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে দুই কোম্পানিকেই বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নাসা চাঁদে প্রত্যাবর্তনকে ভবিষ্যৎ মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করে; ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মোট ১২ জন মার্কিন নভোচারী চাঁদে হাঁটেন।
স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট এখনো কক্ষপথে পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর হয়নি, তবে ২০২৮ সালের মধ্যে নভোচারীসহ চাঁদে অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা চ্যালেঞ্জিং হলেও মার্কিন সরকারের বাড়তি চাপ ও বিনিয়োগ এই প্রতিযোগিতাকে ত্বরান্বিত করছে।
মাস্ক ও বেজোসের এই প্রতিযোগিতা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে নতুন বিনিয়োগের ঢেউ তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদ ভবিষ্যতে কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে আর সে লক্ষ্যেই এখন গতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই ধনকুবেরের মহাকাশ স্বপ্ন।
সূত্র: রয়টার্স
সাবরিনা রিমি/










