নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি
সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করে যখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছিল প্রশাসন, ঠিক তখনই নির্বাচনোত্তর সহিংসতা সেই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ভোটের আমেজ কাটতে না কাটতেই জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিপক্ষের হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রশাসনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও সফল ভোট:
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটের দিন ও তার আগের প্রস্তুতি ছিল নজিরবিহীন। জেলার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য (পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী) মোতায়েন ছিল। ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সার্বক্ষণিক নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বডি-অন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ব্যবহারের ফলে ভোটের দিন বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে কাউকেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা সাধারণ ভোটারদের আস্থা বাড়িয়েছিল।
সহিংসতার কালো ছায়া:
তবে ভোটের ফলাফল ঘোষণার রাত থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে দৃশ্যপট। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫: বন্দরে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। একরামপুর, নূরবাগ ও মুছাপুর এলাকায় বাড়িঘর ভাঙচুর এবং শামীম ও আনোয়ার নামের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি রিকশা গ্যারেজেও চালানো হয়েছে তান্ডব। একই আসনে দশদলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল মামুনের সমর্থকদের ওপরও সোনাকান্দা ও পাড়াকপাড়া এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪: ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা ইকবালের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৩: সিদ্ধিরগঞ্জে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের ছেলেদের বিরুদ্ধে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ -৩ ধানের শীষের সর্মথক সিদ্ধিরগঞ্জে ২নং ওয়ার্ডের ইকবাল ও জিমিসহ দাঁড়িপাল্লার সিদ্ধিরগঞ্জ পশ্চিম থানার আমীর মাহাবুব আলমকে গুরুতর যখম করে।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া:
শহরবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে ভোটের দিনটি উৎসবমুখর ছিল। কিন্তু জয়-পরাজয় পরবর্তী এই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও হামলা সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। তাদের দাবি, ভোটের দিনের মতো কঠোরতা বজায় রেখে দ্রুত এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
নোট: ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় থানাগুলোতে ইতোমধ্যে একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের অপেক্ষায়।
মাহমুদ কাওসার
নারায়ণগঞ্জ










