মার্কিন অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বিক কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৪৮ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর খবর তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে নিশ্চিত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি সাহস ও মর্যাদার সঙ্গে কাটিয়েছেন।
১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত জনপ্রিয় টিন ড্রামা সিরিজ ডসন্স ক্রিক–এ ডসন লিরির চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। সিরিজটিতে তার চরিত্রের ঘরের দেয়ালে স্টিভেন স্পিলবার্গ–এর চলচ্চিত্র ই টি এবং শিন্ডলার‘স লিস্ট–এর পোস্টার দেখা যেত—যদিও বাস্তবে তাঁদের একসঙ্গে কাজ হয়নি। গত বছর সিরিজটির পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে স্পিলবার্গ ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে ভ্যান ডার বিক প্রকাশ্যে জানান, তিনি কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত এবং আগের বছরের আগস্ট থেকে নীরবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ব্যয়বহুল চিকিৎসায় পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানের পাশে দাঁড়াতে হলিউডে শুরু হয় অনলাইন তহবিল সংগ্রহ।
এই তহবিলে ২৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন স্পিলবার্গ ও তার স্ত্রী কেট ক্যাপশো। অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জোয়ি সালদানিয়া (জোয়ি সালদানিয়া–পেরেগো) প্রতি মাসে আড়াই হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আর ‘উইকেড: ফর গুড’-এর পরিচালক জন এম চু দিয়েছেন ১০ হাজার ডলার।
‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ভ্যান ডার বিক ফ্যামিলি’ নামের উদ্যোগে পরিচালিত তহবিলটি ইতিমধ্যে ২০ লাখ ডলারের লক্ষ্য অতিক্রম করেছে। এক বিবৃতিতে আয়োজকেরা অনুদানদাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গভীর শোকের মধ্যেও এই সহমর্মিতা তাঁদের জন্য আলোর মতো কাজ করছে—এতে বোঝা যায় ভালোবাসা সত্যি, সম্প্রদায় শক্তিশালী, আর জেমসের স্মৃতি মানুষকে একত্র করছে।
টেলিভিশনের বাইরে তিনি ভার্সিটি ব্লুজ ও দ্য রুলস অব অ্যাট্রাকশন–সহ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তবে ‘ডসন্স ক্রিক’-এর বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে সেই চরিত্রের পরিচিতি ছাপিয়ে নতুনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা তার জন্য সহজ ছিল না। তবু নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি ছিলেন গর্বিত। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অতীতকে তিনি কখনো ঝেড়ে ফেলতে চাননি।
-বিথী রানী মণ্ডল










