কিউবার রাজধানী হাভানার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা দেশটির চলমান জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত তেল-নিষেধাজ্ঞার কারণে এমনিতেই জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে দ্বীপদেশটি। খবর আলজাজিরার।
শুক্রবার হাভানা উপসাগরের পাশে অবস্থিত নিকো লোপেজ তেল শোধনাগার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়। দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। কিউবার জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় জানায়, শোধনাগারের একটি গুদামঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভানো হয়েছে এবং ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়ায়নি বলেও জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিকো লোপেজ শোধনাগারে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগুন লাগার স্থানটি ছিল হাভানা বন্দরে নোঙর করা দুটি তেলবাহী জাহাজের কাছাকাছি। দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর অভিযানের পর দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং সম্প্রতি এমন এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, যাতে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী যে কোনো দেশের ওপর বাণিজ্য শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বাস ও ট্রেন পরিষেবা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিছু হোটেল বন্ধ রয়েছে, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা হয়েছে। হাসপাতালেও জনবল কমানো হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণ না হলে কিউবায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার ৮০০ টনের বেশি মানবিক সহায়তা নিয়ে মেক্সিকান নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ হাভানায় পৌঁছায়, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে কিউবায় কোনো বিদেশি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছায়নি। দেশটি নিজস্ব চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস দে কসিও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে “ব্যাপক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা” গ্রহণ করছে। তাঁর ভাষ্য, কিউবার জ্বালানি আমদানি প্রয়োজন, কিন্তু যে কোনো দেশ তেল সরবরাহ করলে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট পরিবহন, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য উৎপাদন এবং জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, তাঁর সরকার কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করতে চায় এবং ওয়াশিংটনের তেল-নিষেধাজ্ঞাকে “অন্যায়” বলে সমালোচনা করেছেন।
-বেলাল










