চীনা মাছধরা জাহাজ জব্দ, অধিনায়ক গ্রেপ্তার—টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার শঙ্কা

জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক জলসীমায় পরিদর্শনের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে একটি চীনা মাছধরা জাহাজ জব্দ করেছে জাপান এবং জাহাজটির অধিনায়ককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।খবর আলজাজিরার।

জাপানের মৎস্য সংস্থা শুক্রবার জানায়, ৪৭ বছর বয়সী এক চীনা নাগরিক, যিনি জাহাজটির অধিনায়ক, তাকে সমুদ্রপথে পরিদর্শন এড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জাহাজটি বৃহস্পতিবার নাগাসাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে, মেশিমা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮৯ দশমিক ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, পরিদর্শনের জন্য জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি নির্দেশ না মেনে পালানোর চেষ্টা করে। পরে একই দিন অধিনায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। জাহাজে ওই সময় আরও ১০ জন আরোহী ছিলেন।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, জাহাজটি ম্যাকারেল ও হর্স ম্যাকারেলের মতো বিপুল পরিমাণ মাছ ধরতে সক্ষম। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, অবৈধভাবে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে জাহাজটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। তদন্তের স্বার্থে অধিনায়ক অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা প্রকাশ করা হয়নি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়েছে। চীন ও জাপানের মধ্যে পূর্ব চীন সাগরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ-যা চীনে দিয়াওইউ দ্বীপপুঞ্জ নামে পরিচিত-এলাকায় দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা শুক্রবার বলেন, বিদেশি জাহাজের অবৈধ মাছধরা ঠেকাতে ও প্রতিরোধ করতে আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে তারা দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে থাকবেন। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন, বেইজিং যদি শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, তবে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এ মন্তব্যে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়, টোকিওর রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং জাপানে ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে।

পরবর্তীতে চীন পূর্ব চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া চালায়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারযোগ্য পণ্যের জাপানে রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি স্থগিতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই জাহাজ জব্দের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস আরও বাড়াতে পারে, বিশেষত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক অধিকার ইস্যুতে।

-বেলাল