মাদাগাস্কারে ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ৩৮, বাস্তুচ্যুত ১২ হাজার

ঘূর্ণিঝড় গেজানির তাণ্ডবে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার -এ অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ঝড়টি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরে আঘাত হানার পর ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে ঝড়টি আবার শক্তি সঞ্চয় করে শুক্রবার সন্ধ্যায় মোজাম্বিক -এর দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আলজাজিরার।

মাদাগাস্কারের জাতীয় ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় বৃহস্পতিবার সর্বশেষ তথ্যে জানায়, এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং অন্তত ৩৭৪ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভারত মহাসাগরীয় উপকূলীয় শহর তোয়ামাসিনা-এ আঘাত হানে গেজানি। ঝড়ের সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের এই শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। উপড়ে পড়া গাছ, উড়ে যাওয়া ঘরের ছাদ এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত বহু বসতবাড়ি-এমন দৃশ্য দেখা গেছে সর্বত্র।

দেশটির নতুন নেতা কর্নেল মাইকেল রন্দ্রিয়ানিরিনা জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তোয়ামাসিনা ও আশপাশের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ১৮ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৫০ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা প্লাবিত হয়েছে। অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার কারণে। তোয়ামাসিনা থেকে রাজধানী আন্তানানারিভোকে সংযুক্তকারী প্রধান সড়ক একাধিক স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও অস্থির হয়ে পড়েছে।

ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি মোজাম্বিক চ্যানেলে প্রবেশ করে আবারও ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি অর্জন করতে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণ মোজাম্বিকে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। মোজাম্বিকের কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। সম্ভাব্য ১০ মিটার উচ্চতার ঢেউ ও প্রবল বাতাসের আশঙ্কায় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক উভয় দেশই ভারত মহাসাগর থেকে আসা শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকিতে থাকে। গত মাসেই মাদাগাস্কারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেকটি ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অন্যদিকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতজনিত বন্যায় গত অক্টোবর থেকে মোজাম্বিকে প্রায় ১৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

-বেলাল