জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আট জন উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর মধ্যে সাত জনই জয়লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে বয়সে তুলনামূলক তরুণ ড. এম এ মুহিত। নতুন প্রজন্মের স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাজসেবা এবং পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী নিয়ে দেশে-বিদেশে কাজের জন্য তিনি নন্দিত। সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নজর কেড়েছেন এই তারুণ্যদীপ্ত গবেষক।
নির্বাচনে জয়ী বিএনপির বাকি ৬ জন উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী হলেন: কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, নরসিংদী-২ আসনে আবদুল মঈন খান, কুমিল্লা-১ আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, চাঁদপুর-১ আসনে আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং গাজীপুর-৩ আসনে এস এম রফিকুল ইসলাম।
ড. এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬): তিনি লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন থেকে পিএইচডি এবং ইউসিএল থেকে এমএসসি সম্পন্ন করা একজন আন্তর্জাতিক মানের গবেষক। হাজার হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি ‘মানবতার সেবক’ হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশে ১১টি চক্ষু ও মা-শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করছেন এবং ৪টি দেশে সমাজসেবামূলক কাজ করছেন। এছাড়া ২৮টি দেশের ৮০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার নেটওয়ার্কের নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বখ্যাত জার্নালে তাঁর ১৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক (কিশোরগঞ্জ-৩): সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রী একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ। তিনি দীর্ঘ সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
ড. আবদুল মঈন খান (নরসিংদী-২): তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে গবেষণা করেছেন। তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিজ্ঞানে দক্ষ এই ব্যক্তিত্ব বিএনপি-জোট সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১): রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত ড. মোশাররফ ২০০১-২০০৬ মেয়াদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
ড. রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১): বিশ্বমানের এই অর্থনীতিবিদ দীর্ঘ ৩০ বছর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞ ড. কিবরিয়া কম্বোডিয়া, ঘানা ও পাপুয়া নিউগিনির সরকারকে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে উপদেষ্টা হিসেবে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
আ ন ম এহসানুল হক মিলন (চাঁদপুর-১): আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারক হিসেবে পরিচিত মিলন ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশে আলোচিত হন। প্রশাসনিক দক্ষতা ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে তিনি দেশের ভঙ্গুর পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন।
অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম (গাজীপুর-৩): তিনি একজন সফল চিকিৎসক ও উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি চিকিৎসকদের অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্য তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
-বেলাল










