যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে তারা ফ্যাসিবাদ চায়: কক্সবাজারের আমিরের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, দেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজনে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “একসময় যারা মুখ লুকিয়ে ছিলেন, আজ তারা বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা চাই তাদের মুখের কথা যেন বুকের কথা হয়।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেবেন, জনগণ ধরে নেবে তারা আবারও দেশে পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো বিশেষ দল বা পরিবারের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।”
দেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, লুণ্ঠনকারীরা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, যা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি—ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব এবং ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন করব।”
যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, তরুণরা অপমানজনক ‘বেকার ভাতা’ চায় না, তারা কাজ চায়। তিনি মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলকে কেন্দ্র করে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, “মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আমরা এই অঞ্চলকে সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের চেয়েও সমৃদ্ধ জায়গায় নিয়ে যেতে পারব। মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ পাবে।”
আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সৎ ও চরিত্রবান নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি বা ব্যাংক ডাকাতদের দিয়ে প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। যারা মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকে, তাদের দিয়েই আগামীর পথ চলা হবে।”
জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলগুলোর (খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, জাগপা প্রভৃতি) শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মহেশখালীর জনসভা শেষে জামায়াত আমির কক্সবাজার শহর, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে আরও চারটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লামিয়া আক্তার