উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। টানা ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনার প্রস্তুতি চলছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ভোর থেকেই ভোটারদের লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে। অনেকেই সপরিবারে ভোট দিতে আসেন। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে তরুণ ভোটাররা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আবার অনেকে জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এবারই তারা ভোটকেন্দ্রে এসেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জানান, শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায়। প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা থাকার কথাও তিনি জানান।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল হওয়ায় সেখানে ভোট হয়নি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভোটারদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘ভোটদান শুধু নাগরিক অধিকার নয়, এটি একটি দায়িত্ব।’ তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে জানান। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ বিজিবি সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ র্যাব সদস্যসহ অন্য বাহিনীর সদস্যরা।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ইউএভি (ড্রোন) ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন—দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।
মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন।
সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১) এবং সর্বোচ্চ গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩)।
নির্বাচনে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক এবং ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জন পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন। ইতোমধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ২১৪ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
-বেলাল










