আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, হুমকি ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ১১ দলের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনকে ঘিরে সামগ্রিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাদের নেতাকর্মী, নির্বাচনী এজেন্ট ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর হামলা, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো হলো:
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী): নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও আহত করার ঘটনা।
মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর): আগের দিন একই ধরনের হামলার অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জ: মাইকিং করে কয়েকজনকে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হয়, যাদের অধিকাংশই নির্বাচনী এজেন্ট বলে দাবি।
ফরিদপুর-২, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, বরিশাল, পটুয়াখালী: এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ।
প্রতিনিধি দল আরও অভিযোগ করে, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকায় ১২টি ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা লিখিতভাবে ইসিকে জানানো হয়েছে।
এছাড়া বিকাশে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নগদ অর্থ বহন নিয়ে এক জেলা নেতাকে ঘিরে ‘নাটক সাজানো’ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তাদের ভাষ্য, ব্যাংক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওই অর্থ বহন করা হচ্ছিল।
কুমিল্লা-৪ আসনে এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ভোটারদের হাত ভেঙে দেওয়া ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন,
“নির্বাচন ঘিরে দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মী ও নির্বাচনী সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী এজেন্টদের নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি।”
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিতকরণ এবং অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা, এজেন্ট বাধা, ক্যাম্প ভাঙচুর ও ভোটার প্রভাবিতকরণের অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষ করে প্রার্থীদের এজেন্টদের নিরাপত্তা, সিসিটিভি স্থাপন, বডি ক্যামেরা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের দাবি নির্বাচন ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি দলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে বক্তারা গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে অপপ্রচার এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে হয়, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
_এজাজ/মামুন










