ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে। ২২ জানুয়ারি সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত ও জনসভার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ১৯ দিনের ঝটিকা সফরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশজুড়ে অন্তত ৬৪টি জনসভা করেছেন। তবে এবারের প্রচারণায় সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল তার ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’ বা অংশগ্রহণমূলক প্রচারকৌশল এবং পরিবারকে সাথে নিয়ে ভোটারদের সামনে আসা।
‘মঞ্চে সাধারণ মানুষ’: একতরফা বক্তৃতার অবসান
তারেক রহমান এবার প্রথাগত রাজনৈতিক ভাষণের বাইরে গিয়ে মঞ্চে সাধারণ মানুষকে ডেকে নিয়েছেন। সিলেটের শান্তিগঞ্জের যুবক এ টি এম হেলাল থেকে শুরু করে ঢাকার ভাষানটেকের শ্রমজীবী মানুষ-সবার সাথে তিনি মাইক্রোফোনে সরাসরি কথা বলেছেন। সিলেটে এক পরহেজগার ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে ‘বেহেশত-দোজখের মালিক কে?’-এমন প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তিনি ভোটের রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। তিনি সরাসরি মানুষের কাছে এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যোগাযোগবিদেরা একে দেখছেন ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’ বা দর্শক-শ্রোতাদের যুক্ত করার একটি আধুনিক কৌশল হিসেবে।
পশ্চিমা ধাঁচে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল
এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান নিজেকে একজন দায়িত্বশীল স্বামী ও পিতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা সাধারণত পশ্চিমা বিশ্বের রাজনীতিতে (যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে) দেখা যায়। জনসভাগুলোতে তার পাশে দেখা গেছে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে। অন্যদিকে, মেয়ে জাইমা রহমান তরুণদের সাথে রিল-মেকিং আড্ডা ও বস্তি পরিদর্শনের মতো কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলোর নারীকেন্দ্রিক রক্ষণশীল বক্তব্যের বিপরীতে তারেক রহমান তার পরিবারকে সাথে নিয়ে আধুনিক ও প্রগতিশীল পারিবারিক মূল্যবোধের বার্তা দিয়েছেন।
ভুল স্বীকার ও ‘শান্তির বাণী’
প্রচারণার শেষলগ্নে বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিএনপির লক্ষ্য প্রতিহিংসা নয় বরং সহনশীলতার রাজনীতি। চট্টগ্রামে তিনি বলেছিলেন, “শুধু সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করলে দেশের মানুষের পেট ভরবে না।”
তরুণ ভোটার ও ডিজিটাল সংযোগ
তারেক রহমানের এই ‘টাউন হল মিটিং’ স্টাইল মূলত তরুণ ও নতুন ভোটারদের লক্ষ্য করে সাজানো। যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথস্ক্রিয়ায় অভ্যস্ত, তাদের কাছে ‘আমি তোমাদেরই লোক’-এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। বাসে করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলা এবং মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দ্রুত জনসভা শেষ করার মাধ্যমে তিনি এক ধরণের গতিশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।