চীনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে পালাউ ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের দুই নেতার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের দুই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতির’ অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, তাদের কর্মকাণ্ড চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে এবং মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। খবর আলজাজিরার।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হক্কন্স বাউলেস এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সাবেক মেয়র অ্যান্ডারসন জিবাস “গুরুতর দুর্নীতির” সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যমে বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের মার্কিন করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ বা মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি করতে দেবে না।” আন্তর্জাতিক মাদক ও আইনপ্রয়োগবিষয়ক ব্যুরো (আইএনএল)ও এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন জানিয়েছে।

 পালাউয়ের বিরুদ্ধে অভি্যোগ

মার্কিন অভিযোগ অনুযায়ী, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হক্কন্স বাউলেস চীনের স্বার্থে অবস্থান নেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। মাইক্রোনেশিয়ার অন্তর্গত ছোট দ্বীপরাষ্ট্র পালাউ বর্তমানে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা অল্প কয়েকটি দেশের একটি। তবে বাউলেস প্রকাশ্যে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, তার কর্মকাণ্ড “গুরুতর দুর্নীতি” এবং পালাউয়ে মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

 মার্শাল দ্বিপপুঞ্জে তহবিল অপব্যবহারে অভিযোগ

অ্যান্ডারসন জিবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘বিকিনি রিসেটলমেন্ট ট্রাস্ট’ নামে একটি মার্কিন-সমর্থিত তহবিল অপব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিকিনি অ্যাটলে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দিতে এই তহবিল গঠন করা হয়। ২০১৭ সালে তহবিলটির নিয়ন্ত্রণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার সময় এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ তা নেমে আসে মাত্র ১ লাখ ডলারে, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিযোগ করেছে, এই অর্থের চুরি ও অপব্যবহার কর্মসংস্থান হ্রাস, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, জিবাসের জবাবদিহিতার অভাব চীনের মতো “বিদ্বেষী বিদেশি শক্তির” প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন

পালাউ ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ-উভয় দেশই একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ ছিল এবং বর্তমানে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা নিয়ন্ত্রণের অধিকার পায়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। চীন ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত আধিপত্য ধরে রাখতে সচেষ্ট। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসা এবং নির্গমন হ্রাস উদ্যোগে অনাগ্রহ দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে, কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি তাদের জন্য বড় হুমকি। সবশেষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, “জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার চেষ্টা যারা করবে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

-বেলাল