নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে ঢাকার দোহার উপজেলায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “মানুষ আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সেটি কোনো দলীয় সরকার হবে না—১৮ কোটি মানুষের সরকার হবে।
সোমবার রাতে দোহার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে ঢাকা–১ আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের পক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মামলাবাজমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে ঢাকা–১ আসনটি জামায়াতকে উপহার দিন। একবার সুযোগ দিন—মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, দোহার একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। নজরুল ইসলামকে বিজয়ী করলে দোহার–নবাবগঞ্জের মানুষের সকল সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এ এলাকায় আর কেউ চাঁদাবাজি বা দস্যুতা করতে পারবে না।”
দোহার–নবাবগঞ্জ এলাকার বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদেশে প্রবাসীরা মারা গেলে যেন লাশ পড়ে না থাকে—সে ব্যবস্থাও রাষ্ট্রই নেবে।”প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার নবাবগঞ্জের প্রবাসীদের রেমিটেন্স যোদ্ধা বলে অভিহিত করে তাদের সুযোগ সুবিধা ও বিমানের সিন্ডিকেড ভাংগার বিষয়ে জোরারোপ করেন।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বর্তমানে মানুষ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের কোনো ভয় বা শঙ্কা থাকবে না। তিনি বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়—আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। তার আগমনকে ঘিরে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে “তারুণ্যের বাংলাদেশ” গড়ে তোলা হবে। কোনো মা-বোনের ইজ্জতহানি হবে না।
তিনি সকল ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন এবং প্রার্থী নজরুল ইসলামের হাত ধরে তাকে জনতার সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দাড়ি-পাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও স্লোগানে স্লোগানে সমাবেশস্থল মুখর করে তোলেন। প্রায় ১৮ মিনিট ধরে তিনি বক্তব্য দেন।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। দাড়ি-পাল্লার প্রার্থীকে তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেলাম—তোমরাই তাকে বিজয়ী করবে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, নজরুল ইসলাম বিজয়ী হলে দোহার–নবাবগঞ্জের মানুষ একজন মন্ত্রী পাবে এবং রাজধানীর পাশের এই অঞ্চল আর অবহেলিত থাকবে না।
সন্ধ্যার আগ থেকেই জয়পাড়া পাইলট স্কুল মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়ো হতে থাকেন। রাত পৌণে ৯টার দিকে জামায়াত আমির সভাস্থলে পৌঁছালে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ, যুবক ও ছাত্রজনতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন প্রার্থী নজরুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহিম খলিল। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, এনসিপির রাসেল মোল্লা প্রমুখ।
মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার










